
জিয়াবুল হক, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জেটিটি দীর্ঘ ২২ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। ২০০৪ সালে নির্মাণের পর একবারও সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে নাফ নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ৫৫০ মিটার লম্বা এই জেটিটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জেটির রেলিং ও বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে, যা পর্যটক এবং স্থানীয় দ্বীপবাসীদের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ভাঙন ধরা এই জেটি দিয়েই প্রতিদিন শত শত পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের নিচু এলাকা ভরাটের জন্য নাফ নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলায় জেটির স্তম্ভ বা খুঁটির আশপাশ দেবে গেছে। মেসার্স চায়না হারবাল নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বালু উত্তোলনের ফলে জেটিটি আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্বীপবাসী জানান, ২০০৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে জেটিটির দেখভালের দিকে কেউ নজর দেয়নি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এই জেটিতে ভিড় করেন। এছাড়া সেন্টমার্টিন যাতায়াত এবং মিয়ানমারের পশু করিডোর হিসেবেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেটির মুখে মোতায়েন থাকা বিজিবি সদস্যরা জানান, অবস্থা নাজুক হওয়ায় এখন বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং লোকজনকে ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিনে যাতায়াত সুবিধা এবং সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেটিটি নির্মাণ করা হয়। পরে এটি কক্সবাজার জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দুই সংস্থার মধ্যে রশি টানাটানির কারণে সংস্কার কাজ ঝুলে আছে। সাবরাং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ ফারিহা ইয়াছিন জানান, এই জেটির ওপর শত শত পর্যটক এবং মাছ শিকারি পরিবারের জীবিকা নির্ভর করছে। এটি ধসে পড়লে পুরো দ্বীপবাসী বিপাকে পড়বে।
জেটি সংস্কারের বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-মারুফ জানান, এলজিইডি-র সাথে আলাপ করে সংস্কারের বাজেট নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোসাইন দাবি করেন, ২০০৪ সালে হস্তান্তরের পর থেকে জেটিটির দেখভালের দায়িত্ব জেলা পরিষদের। এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, বিষয়টি জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এম.এম/সকালবেলা